06, October, 2022
Home » দেশে শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচন হবেনা, নির্বাচন হতে হবে নির্বাচনকালীন সরকারের অধীনে : তারেক রহমান

দেশে শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচন হবেনা, নির্বাচন হতে হবে নির্বাচনকালীন সরকারের অধীনে : তারেক রহমান

লন্ডন : ৩০ জানুয়ারী (রোববার) : বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, শেখ হাসিনার অধীনে বাংলাদেশে  আর কোনো নির্বাচন হবেনা।  হতে পারেনা। জনগণ হতে দেবেনা। নির্বাচন হতে হবে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ  সরকারের অধীনে।  নির্বাচনে ভোট জালিয়াতির মেশিন ইভিএম ব্যবহার চলবেনা।

রোববার (৩০ জানুয়ারী)  স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন কমিটি উদ্যোগে ‘২৫ জানুয়ারি ১৯৭৫: বাকশাল’ শীর্ষক আয়োজিত এক ভার্চ্যুয়াল আলোচনা সভায় তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বাধীনতার সূবর্ণ জয়ন্তী উপদযাপনে গঠিত বিএনপির জাতীয় কমিটির  আহবায়ক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, গত একযুগ ধরে  মাফিয়া চক্রের কবলে দেশ।  ভোটাধিকার বঞ্চিত দেশের জনগণ।  দেশের স্বাধীনতা- সম্মান হুমকির সম্মুখীন। এই বাকশালী চক্রের কবল থেকে  দেশ উদ্ধার করতে হবে।  জনগণের অধিকার জনগণকে  ফিরিয়ে দিতে হবে। শ্লোগান তুলতে হবে, ‘হঠাও মাফিয়া-বাঁচাও দেশ  ‘টেক ব্যাক বাংলাদেশ’

তারেক রহমান বলেন, জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই  জনগণের আকাঙ্খা বাস্তবায়নে, বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠা করেছিল।  অথচ, বিনাভোটে রাষ্ট্র ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখতে ৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের পরাজিত অপশক্তি  মহাজোটের নামে একজোট হয়ে সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার  ব্যবস্থা বাতিল করে দিয়েছিলো।

তিনি আরো বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন  ক্ষমতাসীন অপশক্তি দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিতে  ২০১২ এবং ২০১৭ সালে, রাষ্ট্রপতিকে ব্যবহার করে, মেরুদন্ডহীন কিছু অর্বাচীনকে দিয়ে  গণবিরোধী নির্বাচন  কমিশন গঠন করেছিল।  একই কায়দায় এবার আবারো  তারা রাষ্ট্রপতিকে দিয়ে  তৃতীয়বারের মতো  নির্বাচন কমিশন গঠন প্রক্রিয়া শুরু করেছিল। তবে,  ভুয়া নির্বাচন কমিশন গঠন করে  এবার আর আগের মতো  পার পাওয়া যাবেনা টের পেয়ে,  জনগণকে ধোকা দিতে  নিশিরাতের সরকার হঠাৎ করেই   বিনাভোটের সংসদে কয়েক ঘন্টার মধ্যেই  বাকশালী কায়দায় তড়িঘড়ি করে ‘নির্বাচন কমিশন গঠন আইন’ পাশ করে।

 

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, গত ২৭ জানুয়ারী ভুয়া সংসদে পাশ করা নির্বাচন কমিশন গঠন আইনে বলা হয়েছে,  ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার  নিয়োগদানের উদ্দেশ্যে,  রাষ্ট্রপতি কর্তৃক  ইতোপূর্বে গঠিত অনুসন্ধান কমিটির  ও তৎকর্তৃক সম্পাদিত কার্যাবলি  এবং  উক্ত অনুসন্ধান কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার  এবং  নির্বাচন কমিশনারের  নিয়োগ বৈধ ছিল বলিয়া গণ্য হইবে  এবং  উক্ত বিষয়ে  কোনো আদালতে কোনো প্রশ্ন  উত্থাপন করা যাবে না।’

তারেক রহমান বলেন, তাড়াহুড়ো করে অবৈধ সংসদে পাশ করা  ‘নির্বাচন কমিশন আইনে’র ব্যাপারে   জনমনে অনেক প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।    তিনি বলেন, দেশে গত পঞ্চাশ বছরে  এ পর্যন্ত কমপক্ষে ১২টি নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়েছে।  এখন প্রশ্ন হলো, নির্বাচন কমিশন গঠন আইনে  কি কারণে  শুধুমাত্র ২০১২ এবং ২০১৭ সালে গঠিত  ‘নির্বাচন কমিশন’ এর জন্য দায়মুক্তির বিধান রাখা হয়েছে? ২০১২ এবং ২০১৭ সালে নির্বাচন কমিশন গঠনে রাষ্ট্রপতি গঠিত সার্চ কমিটি ‘বৈধ ছিল বলিয়া গণ্য হইবে  এবং উক্ত বিষয়ে  কোনো আদালতে কোনো প্রশ্ন  উত্থাপন করা যাবে না’, কেন বিশেষভাবে এ কথা বলা হয়েছে?

তারেক রহমান আরো বলেন, সর্বশেষ গঠিত দুটি নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান খোদ রাষ্ট্রপতির জন্য এভাবে দায়মুক্তি তথা ইনডেমনিটি  ব্যবস্থা রাখার নেপথ্য কারণ  জনগণ জানতে চায়।  তিনি বলেন, বিনাভোটে ক্ষমতা দখলে রাখতে গিয়ে  দেশের সকল সাংবিধানিক এবং বিধিবদ্ধ  প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের পর ভুয়া নির্বাচন কমিশন গঠনের দায়ে  এবার দেশের সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান  রাষ্ট্রপতির জন্য  ইনডেমনিটির ব্যবস্থা রাখতে বাধ্য হওয়ায় এবার আইনগতভাবেও প্রমাণিত হয়েছে,  ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের সরকার গঠিত হয়েছে  সম্পূর্ণ  অবৈধ ভিত্তির উপর।   এ কারণেই বিএনপি  ২০১৪ এবং ২০১৮ সালে গঠিত  নিশিরাতের সরকারকে  বরাবরই অবৈধ সরকার হিসেবেই  গণ্য করে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন  বাংলাদেশের পক্ষের শক্তিকে  সঙ্গে নিয়ে,  জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার  চলমান গণ আন্দোলনে  বিএনপিকেই নেতৃত্ব দিতে হবে।  সারাদেশে বিএনপির সর্বস্তরের  নেতাকর্মীদের প্রতি আন্দোলনের প্রস্তুতি গ্রহণের আহবান জানিয়ে বলেন, আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত হোন, প্রস্তুত থাকুন।  ‘দেশ যাবে কোনপথে , ফয়সালা হবে রাজপথে’

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, তড়িঘড়ি  ‘নির্বাচন কমিশন গঠন আইন’ করে দায়মুক্তির ব্যবস্থা করলেও ভবিষ্যতে গণতান্ত্রিক সরকারের আমলে এই মাফিয়া সরকারের পুরো শাসনকালকে   অবশ্যই আইনি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি  হতেই হবে। কারণ, জনগণের কাছে  অবৈধ সংসদে করা  আইনের কোনো গুরুত্ব নেই।

নতুন প্রজন্মকে উদ্দেশ্য করে তারেক রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতা দখল করে,  প্রতিবারই নিজেদেরকে  অপকর্ম থেকে বাঁচাতে এভাবেই   তাদেরকে দায়মুক্তি তথা ইনডেমনিটি  জারি করতে হয়েছে। খুনি বর্বর রক্ষীবাহিনীকে  তাদের সমস্ত অপকর্ম থেকে  দায়মুক্তি দিতে   ১৯৭৪ সালে সর্বপ্রথম সংবিধানে  ইনডেমনিটি জারি করতে হয়েছিল।   দ্বিতীয়বার ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করা  ১৯৭৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে।  সেটিও আওয়ামী লীগ সরকারেরই শাসনামলে।

 

তারেক রহমান বলেন,  একদিকে ক্ষমতাসীন নিশিরাতের সরকারের  খুনি-লুটেরাদের  বিদেশে পালানোর পথ  সংকুচিত হয়ে আসছে।  অপরদিকে  দেশেও মাফিয়া সরকারের  পতন ঘন্টা বাজতে শুরু করেছে। সুতরাং, তারা যত রকমের আইনই করুক  এসব করে শেষ রক্ষা হবেনা।  ক্ষমতাসীন মাফিয়া চক্রকে  মানুষের ভোট নিয়ে  আর  প্রতারণা-জালিয়াতি-ডাকাতি  করতে দেয়া হবেনা। জনগণ করতে দেবেনা।

সভায় লবিষ্ট নিয়োগ প্রসঙ্গ নিয়েও কথা বলেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, নিশিরাতের সরকার,নিজেদের অপকর্ম আড়াল করতে রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকা খরচ করে বছরের পর বছর ধরে  বিদেশে লবিষ্ট নিয়োগ করে রেখেছিলো।  তবে তারা  গণতন্ত্রকামী বিশ্বের সমর্থন আদায়  করতে ব্যর্থ হয়েছে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ক্ষমতাসীন মাফিয়া গোষ্ঠী  দেশের কোটি কোটি টাকা অপচয় করে   বিদেশে লবিষ্ট নিয়োগ করে  কি ফায়দা অর্জন করেছে  জনগণ জানতে চায়। তথ্য প্রমানসহ  তাদের লবিষ্ট নিয়োগ করার খবর  প্রকাশ হয়ে পড়ায়   এখন তারা বিএনপির বিরুদ্ধে  আবোলতাবোল  বকতে শুরু করেছে।

তারেক রহমান বলেন, বাস্তবতা হলো, গত একযুগ ধরে ক্ষমতাসীন মাফিয়া গোষ্ঠী, গুম-খুন-অপহরণ-লুটপাট-দুর্নীতি মানবাধিকার লঙ্ঘনসহ

এমন কোনো অপরাধ নেই  যা তারা করেনি।  গ্লোবাল ভিলেজের এই সময়ে  নিশিরাতের সরকারের  এইসব মানবতাবিরোধী অপরাধ

গণতান্ত্রিক বিশ্বের নজরে আনতে  বিএনপির কোনো লবিষ্ট নিয়োগের  প্রয়োজন নেই।

তিনি আরো বলেন, দেশে বিদেশে এটি সবার জানা র্যাব-পুলিশের বন্দুক নির্ভর মাফিয়া সরকার  দেশের  সিটিং প্রধান বিচারপতিকে  বন্দুকের নলের মুখে   দেশের বাইরে পাঠিয়ে দিয়েছে। এমন ‘বন্দুক নির্ভর’ বিচার ব্যবস্থাকে ব্যবহার করেই জাতীয়তাবাদী শক্তির ঐক্যের প্রতীক  ‘মাদার অফ ডেমোক্রেসি’ বেগম খালেদা জিয়াকে  মাফিয়া সরকারের প্রতিহিংসার বেড়াজালে বন্দি করে রাখা হয়েছে। দেশনেত্রীকে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার  সুযোগ পর্যন্ত দেয়া হচ্ছেনা।  একাধিকবার নির্বাচিত  একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রতি,  মাফিয়া সরকারের এমন অমানবিক  আচরন গণতান্ত্রিক বিশ্বের অজানা নয়।  এই তথ্যটি গণতান্ত্রিক বিশ্বের নজরে নিতে লবিস্ট নিয়োগের দরকার হয়না।

তারেক রহমান বলেন, দেশে-প্রবাসে সবাই জানেন বাংলাদেশে ২০১৪ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ১৫৪ জনকে এমপি ঘোষণা করা হয়েছে।  ২০১৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর দিবাগত  নিশিরাতে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে  নিয়ে তথাকথিত সরকার ও সংসদ  গঠন করা হয়েছে।সাবেক এমপি ইলিয়াস আলীকে  অপহরণ করে গুম করা হয়েছে। আজো কমিশনার আলমের খোঁজ মেলেনি।

তিনি বলেন, বিশ্বের মানবাধিকার সংগঠনগুলোর হিসেবে দেখা যায়,  মাফিয়া সরকার  এ পর্যন্ত  ছয়-শতাধিক মানুষকে গুম করেছে।  অসংখ্য মানুষকে খুন অপহরণ করেছে।  এখন আবার গুম হওয়া মানুষদের পরিবারগুলোকে  মিথ্যা সাক্ষী দেয়ার জন্য পুলিশ ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।   ক্ষমতাসীনদের অপকর্ম নিয়ে স্রেফ একটি কার্টুন আঁকার কারণে,  লেখক মুশতাককে  কারাগারে নির্যাতন করে  হত্যা করা হয়েছে।  টেকনাফে কমিশনার একরামুল হককে  নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করেছে র্যাব। সারাদেশে বিএনপির ৩৫ লাখের বেশি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে লক্ষাধিক  মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, গত একযুগে দেশ থেকে  পাচার হয়েছে  দশ লাখ কোটি টাকার বেশি।    বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ ফান্ড থেকে   লুট করা হয়েছে ৮১০ কোটি টাকা।  দেশের ব্যাংকগুলোকে  আওয়ামী লুটেরাদের  মানিব্যাগে পরিণত করা হয়েছে।  দেশে মেগা প্রকল্পের নামে  চলছে মেগা লুট। গণতন্ত্র ও বাক স্বাধীনতার পক্ষে,  আন্দোলনকারী অনেক শিক্ষার্থীকে  ক্যাম্পাসে সরকার দলীয় সন্ত্রাসীরা  হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে

রক্তাক্ত করেছে।  শিক্ষার্থীদের অধিকারের পক্ষে কথা বলায় আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন  আলোকচিত্রশিল্পী ড. শহিদুল আলমকে  কোমরে দড়ি বেঁধে  থানায় ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

তারেক রহমানের বলেন, গত একযুগে দেশে এমন অসংখ্য  নৃশংস ও অমানবিক ঘটনা ঘটেছে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, এর একটি ঘটনাও কি মিথ্যা?  এর কোনো একটি ঘটনাও কি  গণতান্ত্রিক বিশ্বের নজরে আনার জন্য  লবিস্টের প্রয়োজন রয়েছে?

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, বিএনপির কোথাও কোনো  লবিষ্ট নিয়োগের প্রয়োজন নেই।  বরং, বাংলাদেশে গণতন্ত্র, ভোটাধিকার,  মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য গুম খুন অপহরণ বন্ধের জন্য, প্রতিটি গণতন্ত্রকামী মানুষ  যিনি যার অবস্থান থেকে  দেশে বিদেশে এক একজন  লবিস্টের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন।

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশে  গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য দেশে কিংবা বিদেশে যিনি বা যারাই লবিং করছেন  কিংবা করবেন   তারা এমনকি বিএনপি দলীয় নেতা-কর্মী  না হলেও তাদের প্রতি  বিএনপির নৈতিক সমর্থন রয়েছে..থাকবে। বিএনপি,  গণতন্ত্রকামী প্রতিটি নাগরিককেই  দেশের স্বার্থে এক একজন লবিষ্ট মনে করে।

 

সভায় তারেক রহমান র্যাব-পুলিশের কয়েকজনের ওপর স্যাংশন জারি নিয়েও বক্তব্য দেন।  তিনি বলেন, স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশে  রক্ষীবাহিনী দিয়ে  গুন-খুন-অপহরনের মাধ্যমে  মানুষকে দাবিয়ে রাখার  অপচেষ্টা হয়েছিল।  বর্তমানেও গণতন্ত্রকামী মানুষকে  দাবিয়ে রাখতে  খুনি রক্ষীবাহিনীর ভূমিকায়  র‍্যাবকে ব্যবহার করা হচ্ছে।

 

তিনি বলেন, একজন মাত্র ব্যক্তির  ক্ষমতার লিপ্সা মেটাতে গিয়ে,  মানবতাবিরোধী অপরাধে লিপ্ত হওয়ায়  র‍্যাব প্রধান, পুলিশ প্রধানসহ

ইতোমধ্যেই দেশের আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর  কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে  স্যাংশন জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।  যাদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে  স্যাংশন জারি  হয়েছে  এই স্যাংশন তাদের এবং  তাদের পরিবার ও স্বজনদের ওপর  কি ধরণের প্রভাব পড়বে এ প্রশ্নের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে,  জনগণ বিশ্বাস করে,  খুনিদের রক্তের নেশা থামাতে  এই স্যাংশন  এন্টিবায়োটিকের মতো  কাজ করেছে।

তারেক রহমান বলেন,  কয়েকজনের ওপর স্যাংশনের ফলে গুম-খুন-অপহরণের শিকার  পরিবারের সদস্যদের মনে  হয়তো কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরেছে। তবে  এমন পরিণতির ব্যাপারে  বিনাভোটের বর্তমান অবৈধ সরকারকে বিএনপি বারবার সতর্ক করে দিয়েছিলো।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের স্বাধীন দেশের প্রতি কেউ  যাতে আঙ্গুল তুলতে না পারে  এ জন্য বিএনপি বারবার মাফিয়া সরকারকে, গুম-খুন-অপহরণ বন্ধ করার  আহবান জানিয়েছিলো।   মানবাধিকার সমুন্নত রাখার  আহবান জানিয়েছিল। গণতন্ত্রের পথ বেছে নেয়ার কথা বলেছিল। মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেয়ার  দাবি জানিয়েছিল। কিন্তু ক্ষমতার নেশায় মাফিয়া সরকার  বিএনপির আহবানে সাড়া না দিয়ে উল্টো তারা   গুম খুন অপহরণ করে  গণতন্ত্রকামি মানুষকে নিষ্ঠুরভাবে  দমন পীড়নের পথ বেঁচে নিয়েছে।  ফলে যা হবার তাই হয়েছে।  আজ যে পরিনাম-পরিণতি  এটি ক্ষমতাসীন মাফিয়া চক্রের  কুকর্মের ফল।   ফলে নিশিরাতের সরকারকেই  এর সকল দায়দায়িত্ব নিতে হবে।

১৯৭৫ সালের দেশে একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠা প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন,  জাতীয় সংসদকে ব্যবহার করে,১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারী,যে দিনটিতে কুখ্যাত বাকশাল  প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল  সেই দিনটি  বাংলাদেশের গণতন্ত্র  ও রাজনৈতিক ইতিহাসে  একটি অভিশপ্ত দিন।  বাকশাল ছিল  মুক্তিযুদ্ধের প্রতি চরম বিশ্বাসঘাতকতা। মুক্তিযোদ্ধাদের আকাংখার প্রতি  চরম বেইমানি।  কারণ   আরেকটি ‘আয়ুব’ কিংবা ‘ইয়াহিয়া’র শাসন  দেখার জন্য মুক্তিযোদ্ধারা দেশটি স্বাধীন করেননি।  প্রাণ বিসর্জন দেননি।  অথচ  বাকশাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে  স্বাধীন দেশে মানুষের স্বাধীনতা কেড়ে নেয়া হয়েছিল।  দেশে একদলীয় বর্বর শাসন  চালুর অপচেষ্টা হয়েছিল।  তবে দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ কুখ্যাত বাকশালীয় অপশাসন  মেনে নিতে পারেনি।  মেনে নেয়নি।  বরং, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর,  সিপাহী জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে,  বাকশালী চক্র, তাদের দোসর  এবং তাঁবেদারদের কবল থেকে   বাংলাদেশকে মুক্ত করে।

 

তারেক রহমান বলেন, এটি ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত,  ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের পর থেকেই  মুক্তিযুদ্ধের ধারায় ফিরে বাংলাদেশ। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের পর থেকেই  মূলত:  গণতন্ত্রের পথে  বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় ।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, ঐতিহাসিক বাস্তবতা হলো,  ৭ নভেম্বরের বিপ্লবের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় এসে  স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের  অন্যতম প্রধান উদ্যোগটি ছিল,  দেশে গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবিত করা।  এরই অংশ হিসেবে  ১৯৭৬ সালের জুলাই মাসে   পলিটিক্যাল পার্টি রেগুলেশন/পিপিআর  জারি করা হয়।এই পিপিআরে’র আওতায়   সেই সময় মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানের  নিষিদ্ধ করা আওয়ামী লীগসহ  কমপক্ষে ৫৬টি রাজনৈতিক দল,   দেশে স্বনামে রাজনীতি করার সুযোগ চেয়ে  স্বাধীনতার ঘোষকের কাছে  আবেদন করে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন তথ্য প্রমাণে দেখা যায়,  সেই সময় রাজনৈতিক দলগুলোর  আবেদনের ভিত্তিতে  প্রথম দফায়  আওয়ামী লিগসহ ২৩টি   রাজনৈতিক দলকে  স্বনামে রাজনীতি করার  সুযোগ করে দেন  শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান।  তবে এখানে একটি বিষয় লক্ষণীয়, সেই সময় কিন্তু  ‘বাকশালে’র পুনরুজ্জীবন চেয়ে  কেউ আবেদন করেনি।  এর অর্থ হলো,  সাধারণ জনগণ যেভাবে  ঘৃণিত বাকশাল প্রত্যাখ্যান করেছে,  একইভাবে সেই সময়কার  আওয়ামী লীগ পর্যন্ত  ‘বাকশালী’ কলংকের  দায়ভার নিতে চায়নি।

তারেক রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করে মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান একদলীয় ‘বাকশাল’ নিয়ে নতুন রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করেছিলেন।    অপরদিকে  আওয়ামী লীগ সেইসময়  ‘বাকশাল’ প্রত্যাখ্যান করে ৭৬ সালের ৪ নভেম্বর থেকে  ‘আওয়ামী লীগ’ নামেই  নতুন যাত্রা শুরু করে।

তিনি বলেন, শেখ মুজিবুর রহমান  কেন আওয়ামী লিগ নিষিদ্ধ করলেন ?  আবার  পরবর্তীতে সুযোগ পেয়েও  আওয়ামী লিগ কেন

বাকশাল পুনরুজ্জীবনের জন্য  আবেদন করলোনা?  ‘ইতিহাস’ কখনো আদালত আর র‍্যাব-পুলিশের  খড়গ মুক্ত হতে পারলে  নতুন প্রজন্মের সামনে  এইসব প্রশ্নের সঠিক জবাব স্পষ্ট হয় উঠবে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, ক্ষমতার প্রতি অতি লোভ আর  জনস্বার্থবিরোধী ভূমিকার কারণে  স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশে  আওয়ামী লীগ  জনগণের কাছে প্রত্যাখ্যাত  একটি দলে পরিণত হয়েছিল।   ফলে  ‘আওয়ামী লীগ’ নিষিদ্ধ করে, মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানকে  খুনি রক্ষীবাহিনীর উপর  ভর করে  একদলীয়  ‘বাকশাল’   চালু করতে হয়েছিল।  একইভাবে বর্তমানেও  জনবিচ্ছিন্ন  আওয়ামি লীগকে  এখন  রক্ষীবাহিনীর পরিবর্তে  র‍্যাবের ঘাড়ে বন্দুক রেখে   অঘোষিত ‘বাকশাল’ চালু করতে হয়েছে।

ভার্চুয়াল সভায় দেশে ও প্রবাসের দলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।  সভার প্রধান অতিথি হিসেবে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ‘১৯৭৫ :বাকশাল’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন। এই গ্রন্থটি প্রকাশক করেছে বিএনপি। গ্রন্থের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে সূচনা বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট রিসার্চ এন্ড কমিউনিকেশন সেন্টারের পরিচালক সাবেক সাংসদ জহির উদ্দিন স্বপন।

সভায় অংশ নিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন,  বাকশাল একটি গালিতে পরিণত হয়েছে। কেনো? এই বাকশালের মধ্য দিয়ে সেদিন দেশে অর্থনীতিকে ধবংস করা হয়েছিলো, রাজনীতিকে ধবংস করা হয়েছিলো, স্বপ্নকে ধবংস করা হয়েছিলো।

একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে তারা দেশ ও জাতিকে গভীর অন্ধকারে ভেতরে নিয়ে গিয়েছিলো। আমরা আজকে ঠিক একইভাবে দেখছি আওয়ামী লীগ অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে দেশের অর্থনীতিকে তারা দলীয়করণ করেছে, লুটতরাজের যে অর্থনীতি সেই অর্থনীতিতে পরিণত করেছে, আমরা দেখছি যে, সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মকান্ডকে অত্যন্ত নিষ্ঠুর হাতে দমন করে বিশেষ করে যারা স্বাধীন চেতা গণতান্ত্রিক মানুষ তাদেরকে হত্যা-গুমের মধ্য দিয়ে তাদেরকে ধবংস করে দেয়া হচ্ছে এবং প্রতিবাদের যে ভাষা সেই ভাষাকে বন্ধ করা হচ্ছে। বিভিন্ন নির্বতনমূলক আইন তৈরি করে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের মতো আইন তৈরি করে যারা কথা বলতে চান তাদের কথা বলাটা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করে দেয়া হচ্ছে।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন কমিটি’র সদস্য সচিব আবদুস সালামের পরিচালনায় ভার্চুয়াল সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

Video Link https://youtu.be/UTIm_nlPAcI

 

Leave a Comment

You may also like

Critically acclaimed for the highest standards of professionalism, integrity, and ethical journalism. Ajkerkotha.com, a new-generation multimedia online news portal, disseminates round-the-clock news in Bangla from highly interactive platforms.

Contact us

Copyright 2021- Designed and Developed by Xendekweb