07, February, 2023
Home » দল-মত-ধর্ম যার যার নিরাপত্তা পাবার অধিকার সবার : তারেক রহমান
TR-sharodiyo

দল-মত-ধর্ম যার যার নিরাপত্তা পাবার অধিকার সবার : তারেক রহমান

শেখ হাসিনার অধীনে বাংলাদেশে আর কোনো নির্বাচন হবেনা : তারেক রহমান

ওএনবি, লন্ডন (৩১ অক্টোবর ২০২২) : বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, শেখ হাসিনার অধীনে বাংলাদেশে আর কোনো নির্বাচন হবেনা।  জনগণ হতে দেবেনা।  আগামী জাতীয় নির্বাচন হতে হবে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে। বর্তমান নিশিরাতের সরকার-সংসদ সব অবৈধ।শেখ হাসিনাকে  অবশ্যই অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে।

সোমবার (৩১ অক্টোবর) গুলশানের বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে শারদীয় দুর্গাপূজা পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।  বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মত বিনিময় সভায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রশাসনের প্রতি বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, ‘এতদিন কেউ কেউ অতি উৎসাহী হয়ে কেউবা পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে গণবিরোধী ভূমিকায় লিপ্ত হয়েছিলেন এবার শান্ত হোন, ক্ষান্ত দিন।  আপনারা নিশিরাতের সরকারের অবৈধ আদেশ মানতে বাধ্য নন।  আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর প্রতি আহবান , জনগণের বুকে আর একটি গুলিও চালাবেন না। জনগণের দিকে আর বন্দুক তাক করবেন না’।

তারেক রহমান আরো বলেন, রাজপথে নেমে আশা মানুষ কারো শত্রু নয়, তারা নিজেদের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চায়, তারা প্রতিটি নাগরিকের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চায়। তারা দিনের বেলায় ভোট কেন্দ্রে গিয়ে নিজের ভোট নিজেই দিতে চায়। অরাজক পরিস্থিতি থেকে দেশ বাঁচাতে মানুষ বাঁচাতে জনগণ জেগে উঠেছে। গণতন্ত্রকামী লাখ জনগণ মাফিয়া সরকারের সকল বাধা উপেক্ষা করে বিএনপি আয়োজিত সমাবেশগুলোতে উপস্থিত হয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, ‘মাফিয়ার দিন শেষ জনগণের বাংলাদেশ’ ।

মত বিনিময় সভায় আরো অংশ নেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, গণফোরামের অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ড. সুকোমল বড়ুয়া, সাবেক সচিব বিজন কান্তি সরকার।

চলতি বছরের আগস্ট মাসে চট্টগ্রামে  জন্মাষ্টমীর এক অনুষ্ঠানে, নিশিরাতের সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল মোমেন হিন্দু সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে বলেছেন ‘আপনাদেরকে আমরা প্রটেকশন দিয়ে যাচ্ছি’ । তারেক রহমান বলেন একটি ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে নিশিরাতের সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন মন্তব্য ‘অর্বাচীনসুলভ’। এ ধরণের মন্তব্য নাগরিক অধিকারের প্রতি অবমাননার শামিল।  এ মন্তব্যে প্রমাণিত ‘দেশের হিন্দু সম্প্রদায়’কে আওয়ামী লীগ তাদের করুনার পাত্র হিসেবে বিবেচনা করছে’।

তারেক রহমান বলেন, একটি আধুনিক রাষ্ট্র ও সমাজে  দেশের জনগোষ্ঠীকে  সংখ্যাগুরু কিংবা সংখ্যালঘু  হিসেবে বিভাজন করে  বৈষম্য সৃষ্টি একটি অমার্জনীয় অপরাধ। কে সংখ্যালঘু আর কে সংখ্যাগুরু  এটি রাষ্ট্রের মুখ্য বিবেচ্য হতে পারেনা।

তারেক রহমান অভিযোগ করে বলেন, বর্তমান মাফিয়া সরকার ক্ষমতা দখল করার পর থেকেই গত একযুগের বেশি সময় ধরে একটি বিশেষ বিষয় লক্ষণীয় সেটি হলো,  সরকার দেশে পরিকল্পিতভাবেই  একটি সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতি  সৃষ্টি করে রাখতে চাইছে।  বিশেষ করে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের  কোনো উৎসব আসলেই হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষেরা নিরাপদে  উৎসব উদযাপন করতে পারবেন কিনা বিনাভোটের সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রনোদিতভাবে  প্রতি বছর সুকৌশলে এমন একটি সন্দেহ সংশয় চারদিকে ছড়িয়ে দেয়’। এমনকি মাফিয়া চক্র নিজেরাই হিন্দু কিংবা অন্য ধর্মাবলম্বীদের উৎসব কিংবা ঘরবাড়ি অথবা ধর্মীয় উপাসনালয়ে সুকৌশলে হামলা চালিয়ে  ব্লেইম গেইমে লিপ্ত হয়। অথচ ব্লেইম গেইম কিংবা বাচালতা কোন রাষ্ট্র ও সরকারের কাজ হতে পারেনা।

তারেক রহমান বলেন বাংলাদেশে সংখ্যাগুরু কিংবা সংখ্যালঘু যাদের উপরই হামলা কিংবা মামলা হোক,  প্রতিটি সংঘর্ষে -প্রতিটি ঘটনায়  প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ জড়িত।   এ কারণেই তারা কোনো একটি ঘটনারও বিচার করেনা।

তিনি একটি মানবাধিকার সংগঠনের একটি রিপোর্ট উল্লেখ করে বলেন, রিপোর্টে বলা হয়েছে,  ২০১৩ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত   নয় বছরে দেশে  বিভিন্ন ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর  সাড়ে তিন হাজারের বেশি হামলা হয়েছে। জনগণ জানতে চায়, কারা এসব হামলাকারী?  একটি হামলার ঘটনারও কি  বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত হয়েছে? একটানা ১২-১৪ বছর ক্ষমতা কুক্ষিগত  করে রাখার পরও   একটি ঘটনারও কি বিচার হয়েছে?

তারেক রহমান আরো বলেন, জনগণ জানতে চায়, ২০২১ সালে কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়  হিন্দু সম্প্রদায়ের শারদীয় উৎসবে  পরিকল্পিত হামলার ঘটনার  বিচার কেন হয়নি ?  বিচারে তাদের কে বাধা দিয়েছে? বাংলাদেশে সংখ্যাগুরু কিংবা সংখ্যালঘু যাদের উপরই হামলা কিংবা মামলা হোক প্রতিটি সংঘর্ষে -প্রতিটি ঘটনায়  প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ জড়িত।  এ কারণেই তারা কোনো একটি ঘটনারও  বিচার করেনা।

তারেক রহমান বলেন, ২০২১ সালে কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শারদীয় দুর্গাপূজায় হামলার পর সেই সময় তিনি কুমিল্লা সহ দেশের বিভিন্নস্থানে  ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর  সকল হামলার ঘটনা খতিয়ে দেখতে   সর্বদলীয়,  সর্বধর্মীয় এবং   সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে
একটি ‘নাগরিক তদন্ত কমিশন’ গঠনের আহবান জানিয়েছিলাম। তিনি বলেছিলেন, ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর  কক্সবাজারের রামুতে,
২০১৬ সালের ৩০ অক্টোবর ব্রাহ্মণবাড়িয়া নাসিরনগর,  ২০১৭ সালের ১০ নভেম্বর   রংপুরের গঙ্গাচড়া, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ কিংবা সুনামগঞ্জের শাল্লাসহ  গত একযুগে দেশের বিভিন্নস্থানে   সংখ্যালঘু ধর্মীয় জনগোষ্ঠীর  ওপর যেসব হামলার ঘটনা ঘটেছে কি কারণে কোনো একটি ঘটনারও  বিচার হলোনা   ‘নাগরিক তদন্ত কমিশন’ সেই সব বিষয়ও খতিয়ে দেখবে।

তারেক রহমান বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, মাফিয়া সরকার একটি ‘নাগরিক তদন্ত কমিশন’ গঠন করার সাহস করেনি।  এর কারণ,  যারা ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর হামলাকারী তারাই এখন  সরকারে – প্রশাসনে। ঐসব  হামলাকারীদের হাতেই জিম্মি দেশের গণমাধ্যম, আইনশৃঙ্খলাবাহিনী কিংবা বিচার বিভাগসহ সবকিছু।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন,  কোনো হামলার ঘটনারই  বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত না করে ক্ষমতাসীন মাফিয়া চক্র  দেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের হামলার  ঘটনাগুলোকে পুঁজি করে বিরোধী দল এবং ভিন্নমতের মানুষ যারা দেশে জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার
আন্দোলন করছে,  তাদেরকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দিয়ে অযথা হয়রানি করছে।

তারেক রহমান বলেন, প্রতিটি ধর্মের মানুষের যেমন প্রধান প্রধান ধর্মীয় উৎসব রয়েছে  আবার খেলাধুলা কিংবা নববর্ষ বা নবান্ন উৎসবের
মতো অনেকগুলো সর্বজনীন উৎসবও রয়েছে। প্রতিটি মানুষ চায় প্রতিটি উৎসব মিলেমিশে আনন্দে উদযাপন করতে। দেশের প্রতিটি নাগরিক যাতে সমাজে নিশ্চিত নিরাপদে  নিজ নিজ বিশ্বাস – মূল্যবোধ, লালন-পালন করতে পারে রাষ্ট্রের দায়িত্ব তেমন পরিবেশ নিশ্চিত করা।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, বিএনপি বিশ্বাস করে দল-মত-ধর্ম যার যার  রাষ্ট্র সবার। দল-মত-ধর্ম যার যার নিরাপত্তা পাবার অধিকার সবার।

তারেক রহমান আরো বলেন, আওয়ামী লীগ বিরোধী দল কিংবা  সরকারে  যেখানেই থাকুক তারা বারবার ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানিয়েছে।  পবিত্র ধর্মকে নিজেদের হীন দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করতে গিয়ে আওয়ামী লীগ সমাজে হিংসা-বিদ্বেষ-অস্থিরতা জিইয়ে রেখেছে-রাখছে। নানা কৌশলে সম্প্রদায়ে-সম্প্রদায়ে অবিশ্বাস সৃষ্টি এবং বিভাজনের বীজ জিইয়ে রেখে তারা রাজনৈতিক ফায়দা লুটার অপকৌশল বেঁচে নিয়েছে।

তারেক রহমান বলেন ক্ষমতার লোভে আওয়ামী লীগ যখন যাকে প্রয়োজন নিজের স্বার্থে ব্যবহার করেছে-করছে। ব্যবহার করা শেষ হয়ে গেলে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার মতো  অপমান করে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে। দেশের আলেম ওলামাদের সঙ্গেও  আওয়ামী লীগ একইধরণের ব্যবহার করছে।  ২০১৮ সালে জাতীয় নির্বাচনের আগে  মাফিয়া সরকারের প্রধান শেখ হাসিনা দেশের কিছু আলেম ওলামাদের  কাছ থেকে ‘কওমি জননী’ খেতাব আদায় করেছিল।  এরপর মাফিয়া প্রধানের কাছে  সেইসব আলেম-ওলামাদের  প্রয়োজন ফুরিয়ে যাওয়ার পর   তাদের অনেককেই এখন  কারণে -অকারণে ধরে   কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।   এটাই মাফিয়াদের চরিত্র।

তারেক রহমান দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দিষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতি আহবান, আপনাকে কিংবা আপনাদেরকে, আপনাদের ধর্মীয় পরিচয়কে আওয়ামী অপশক্তি যেন তাদের নিজেদের হীন দলীয় রাজনৈতিক স্বার্থে  ব্যবহার করতে না পারে  সে ব্যাপারে সতর্ক থাকুন।

তারেক রহমান বলেন, বিএনপি কখনোই ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করতে চায়না।  ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে চায়না। ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানাতে চায়না। বিএনপি মানুষের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে।  মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা\এবং সাংস্কৃতিক স্বকীয়তায় বিশ্বাস করে। মুখরোচক কথা বলে একের ধর্মীয় কিংবা সাস্কৃতিক স্বকীয়তা অন্যের ওপর চাপিয়ে দিতে চায়না।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশে অনেকগুলো ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী রয়েছে।  তাদের প্রত্যেকেরই রয়েছে আলাদা ভাষা এবং সংস্কৃতি। কিন্তু স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশে  আওয়ামী লীগ সবাইকে জোর করে ‘বাঙালি’ বানাতে গিয়ে  ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষের ভাষা ও সংস্কৃতিকে অবমূল্যায়ন ও অপমান করেছিল।   আওয়ামী লীগের সেই অপরিণামদর্শী কর্মের কুফল বাংলাদেশকে এখনো ভোগ করতে হচ্ছে।  বিএনপি মনে করে ধর্ম-সংস্কৃতি-মূল্যবোধ কিংবা ভাষা ও বিশ্বাস এগুলো জোর করে চাপিয়ে দেয়ার  বিষয় নয়।  ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালি-অবাঙালি  বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী কিংবা সংশয়বাদী  সবাই রাষ্ট্রে বাক ও ব্যক্তি স্বাধীনতা ভোগ করবে। সকলক্ষেত্রে সমানাধিকার  ভোগ করবে। এটাই বিএনপি’র নীতিএটাই বিএনপির রাজনীতি’

তারেক রহমান বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের সকল ধর্ম বর্ণ  কিংবা নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর গর্বিত পরিচয় নির্ধারণ করেছিলেন  ‘বাংলাদেশী’। দেশের সকল নাগরিকের মধ্যে ঐক্যসূত্র বিনির্মানে  স্বাধীনতার ঘোষকের যুগান্তকারী রাজনৈতিক দর্শন ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’। একমাত্র ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’ দর্শনই দেশের সকল বর্ণ, ধর্মীয় সম্প্রদায় ও নৃগোষ্ঠীর  নিবিড় সহাবস্থান নিশ্চিত করতে পারে। মানুষে মানুষে সৌহার্দ-সম্প্রীতি বাড়াতে পারে।

তিনি আরো বলেন, ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতি আহবান, নিজেদেরকে সংখ্যালঘু নয় বাংলাদেশী ভাবুন। আমার-আপনার-আমাদের  সবার গর্বিত পরিচয় হোক  ‘আমরা বাংলাদেশী’ । কে সংখ্যাগুরু  আর কে সংখ্যালঘু মুক্তিযুদ্ধের সময় এটি কারো জিজ্ঞাসা ছিলোনা। মুসলমান-হিন্দু, বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী সবাই মিলেই  মুক্তিযুদ্ধ করেছিলো। .

তারেক রহমান বলেন, ক্ষমতালোভী শেখ হয়না এবং তার লুটেরা চক্রের কবলে পড়ে স্বাধীন বাংলাদেশে এখন মুক্তিযুদ্ধের মূলমন্ত্র, সাম্য-মানবিক মর্যাদা-সামাজিক সুবিচার’ এর একটিও অবশিষ্ট নেই।  ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর বিনাভোটের অবৈধ সরকার ২০১৪ কিংবা ২০১৮, বারবার প্রতিবার জাতীয় নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করেছে।  মাফিয়া নেত্রী শেখ হাসিনা বারবার বিনাভোটে ক্ষমতা কুক্ষিগত রাখায় সারা বিশ্বে বর্তমানে এ সরকারের পরিচয়-গভর্নমেন্ট অফ দ্যা মাফিয়া  বাই দ্যা মাফিয়া  ফর দ্যা মাফিয়া।

তিনি আরো বলেন, বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশগুলোর থেকে বিচ্ছিন্ন, নিজ দেশে জনবিচ্ছিন্ন ক্ষমতাসীন মাফিয়া সরকার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে  একের পর নানা অপকর্মের জন্ম দিচ্ছে।  শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মাফিয়া চক্র একদিকে দেশে জঙ্গি নাটক সাজিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের মনোযোগ আকর্ষণ করতে চাইছে অপরদিকে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উপর  সুকৌশলে হামলা চালিয়ে সেটিকে ইস্যু বানিয়ে  প্রতিবেশী ভারতের করুনা ভিক্ষা করছে।  দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ যাতে মাফিয়া সরকারের অন্যায় অপকর্মের  বিরুদ্ধে মুখ খুলতে না পারে সে জন্য মানুষকে গুম খুন অপহরণ করতে শেখ হাসিনার নির্দেশে ঢাকায় গড়ে তোলা হয়েছে  বর্বর গোপন বন্দীশালা ‘আয়নাঘর’ ।

বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘মাফিয়া সরকারের হাতে বর্তমানে মুসলমান-হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী কোনো মানুষই নিরাপদ নয়। এমনকি দেশ ও নিরাপদ নয়।  ক্ষমতাসীন আওয়ামী অপশক্তির বেপরোয়া দুর্নীতি, লুটপাট আর টাকাপাচারের কারণে  দেশে এখন দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

তারেক রহমান দল মত ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে  বাংলাদেশের পক্ষের শক্তির কাছে আমার আহবান আসুন মাফিয়া সরকারের বিরুদ্ধে চলমান গণ আন্দোলনে শামিল হই। বাংলাদেশ যাবে কোন পথে ফয়সালা হবে রাজপথে।

মতবিনিময় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন জয়ন্ত কুমার কুন্ডু, অমলেন্দু দাস অপু, অপর্ণা রায়, এডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী, দেবাশীষ রায় মধু, তরুণ দে, মিল্টন বৈদ্যসহ অনেকে।

Leave a Comment

You may also like

Critically acclaimed for the highest standards of professionalism, integrity, and ethical journalism. Ajkerkotha.com, a new-generation multimedia online news portal, disseminates round-the-clock news in Bangla from highly interactive platforms.

Contact us

Copyright 2021- Designed and Developed by Xendekweb