06, December, 2022
Home » আরব আমিরাতে মানি লন্ডারিং মামলার কয়েক আসামী গ্রেফতার
মানি

আরব আমিরাতে মানি লন্ডারিং মামলার কয়েক আসামী গ্রেফতার

মধ্যপ্রাচ্য প্রতিনিধি
বাংলাদেশের বর্তমান ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বিচারাধীন বহুল আলোচিত মানি লন্ডারিং মামলার একাধিক আসামীকে গতকাল (বহস্পতিবার) গ্রেফতার করেছে শারজাহ পুলিশ। মানি লন্ডারিং ও রাষ্ট্রদ্রোহি মামলার রায়ের আসামীদের কেউ ছিলেন জামিনে, আবার কেউ আছেন পলাতক। ২৯ জুন মামলার রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

শারজাহ পুলিশ আজ যাদের গ্রেফতার করেছে তারা হলেন শিক্ষামন্ত্রী দিপু মনির স্বামী তৌফিক নওয়াজের ম্যানেজার ইকবাল, প্রধানমন্ত্রী কন্যা পুতুলের সাবেক স্বামী মিতুর সহযোগী ফয়সাল, মিতুর কেয়ারটেকার শফিক, সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের ব্যক্তিগত সহকারি আসমা আক্তার রুমি।

মামলায় যারা অভিযুক্ত:
১) শেখ হাসিনা,
২) শেখ রেহানা,
৩) সায়মা ওয়াজেদ পুতুল,
৪) খন্দকার মাসরুর হোসেন মিতু,
৫) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাসুদ রেজওয়ান,
৬) মো. আবদুল মাবুদ সাবেক পরিচালক,
৭) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. রেফায়েত উল্লাহ,
৮) লে. কর্নেল একেএম বদরুদ্দোজা,
৯) মো. সফিকুল ইসলাম, সাবেক অতিরিক্ত সচিব
১০) মেজর মো. আতাউল করিম,
১১) মেজর মো. জাহিদুল ইসলাম,
১২) মেজর শরিফুল ইসলাম
১৩) মেজর সিরাজ উদ্দিন,
১৪) কর্নেল আবদুল লতিফ তালুকদার,
১৫) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মির্জা এনামুল হক মরিশাস,
১৬) লে. রাশেদ উল করিম,
১৭) মেজর এএসএম আশরাফুল আলম,
১৮) তৌফিক নেওয়াজ।
তাদের সবাইকে পলাতক হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তারা অর্থ পাচার ও রাষ্ট্রদ্রোহের মামলার আসামি। এদের বেশির ভাগই চোরাচালানকৃত টাকার ক্যারিয়ার ছিলেন।

শারজাহ আদালত এনসিইএমএকে নির্দেশ দিয়েছে মামলার সাথে যুক্ত অন্যরা যেনো দেশত্যাগ করতে না পারে।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ৬ই জানুয়ারী কয়েক বিলিয়ন ডলার অর্থ পাচারের প্রমানাদিসহ আরব আমিরাতের শারজাহ শহরে গ্রেফতার হন শেখ হাসিনার মেয়ের জামাই খন্দকার মাসরুর হোসেন মিতু। মামলা হওয়া ঠেকাতে শেখ হাসিনা খুব দ্রুতই ছুটে যান আবুধাবী (১১ জানুয়ারী ২০২০)। কিন্তু তার সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। এমনকি আরব আমিরাতের জাতির মাতা শেখা ফাতিমাকে ‘মা’ ডেকে তাঁর মাধ্যমে তদবীর চালিয়েও কোনো সুবিধা করতে পারেননি। এর কারণ হলো, শারজাহতে শরীয়া আইন চলে, এবং শাসক শেখ সুলতান বিন মুহাম্মদ আল কাসিমি নিয়মনীতিতে খুব কড়া, দ্বিতীয়ত শারজাহ শাসকের সাথে কেন্দ্রের শাসকের সম্পর্ক ভালো না। ফলে শেখ হাসিনা দুবাই বা আবুধাবীর শাসকের মাধ্যমে তদবীর চালিয়ে কোনো সুবিধা করতে পারেননি। তাছাড়া ঢাকাস্থ আমিরাতের রাষ্ট্রদূত আলমেহিরিকে তদবীর করতে আবুধাবী পাঠান, কিন্তু কেনো লাভ তো হয়ইনি, উল্টো রাষ্ট্রদূত চাকরি হারিয়েছে। অবশেষে অর্থ পাচার সহ বেশ কয়েকটি মামলা হয় মিতুর নামে। কিন্তু জিজ্ঞাসাবাদে মিতু জানান, পাচারকৃত ঐ অর্থের মালিক তিনি নন, এর প্রকৃত মালিক তার শ্বাশুড়ি শেখ হাসিনা এবং তার স্ত্রী পুতুল। ফলে তাদেরকে সহ মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। শ্বাশুড়ির নাম বলে দেয়ায় হাসিনা চাপে পড়ে যায়, এবং অবশেষে তার কন্যার বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটান। আসামী তালিকায় ঢোকার পর থেকে শেখ হাসিনা রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও বিভিন্ন মন্ত্রীদের পাঠিয়ে অনেক চেষ্টা তদবীর চালান, এবং ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ভিভিআইপি বিবেচনায় একটি বিশেষ ব্যবস্থায় গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি মামলায় হাজিরা দিতেন। ৫/৬ দফা এভাবে হাজিরা দিলেও শেষের দিতে তিনি গর হাজির থাকেন, এমনকি হাজিরা দিতে অস্বীকৃতি জানান! ফলে আদালত বিরক্ত হয়ে তাকে সতর্ক করে। সতর্ক করার পরও একই ঘটনা ঘটান, যা আদালত অবমাননার সামিল। এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে কোর্ট চুড়ান্তভাবে নির্দেশ দেয়, ৯ই মার্চ ২০২২ তাকে সশরীরে আদালতে উপস্থিত হয়ে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে, নইলে একতরফা ভাবে বিচারকার্য শেষ করা হবে। সেই হাজিরা দিতেই তিনি চলতিবছর ৭ই মার্চ বিকালে যান আরব আমিরাতে।

 

Leave a Comment

You may also like

Critically acclaimed for the highest standards of professionalism, integrity, and ethical journalism. Ajkerkotha.com, a new-generation multimedia online news portal, disseminates round-the-clock news in Bangla from highly interactive platforms.

Contact us

Copyright 2021- Designed and Developed by Xendekweb